Tuesday, February 24, 2015

স্বপ্ন বিষয়ক ৮টি বিচিত্র বৈজ্ঞানিক সত্য রবং ব্যাখ্যা

স্বপ্ন বিষয়ক ৮টি বিচিত্র বৈজ্ঞানিক সত্য রবং ব্যাখ্যা


স্বপ্ন বিষয়ে অনেক মনস্তাত্ত্বিকই গবেষণা করেছেন। বিভিন্ন ব্যাখ্যাও তারা দাঁড় করেছেন। তবে আমাদের আজকের আয়োজনে আমরা আলোচনা করব প্যারিসে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি পিয়েরে-এট-মারিয়ে-কিউরিয়ে এর স্নায়ুবিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক ও নিদ্রা বিশেষজ্ঞ ড. ইসাবেলে আরনুফ এর গবেষণার আলোকে স্বপ্ন বিষয়ক কিছু ব্যাখ্যা সম্পর্কে। আসুন জেনে নিই আরনুফের দেয়া স্বপ্ন বিষয়ক কিছু তথ্য সম্পর্কে।

১. অসংখ্য স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা রয়েছে একজন মানুষের :

সত্যি কথা, একজন মানুষ অসংখ্য স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা রাখে। একজন মানুষ তার সারা জীবনে গড়ে প্রায় ১০০০০০ গুলো স্বপ্ন দেখে থাকতে পারেন যেটি এক রাতে ২৪ টিরও বেশি হতে পারে। প্যারিসে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি পিয়েরে-এট-মারিয়ে-কিউরিয়ে এর স্নায়ুবিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক ও নিদ্রা বিশেষজ্ঞ ড. ইসাবেলে আরনুফ বলেন, ‘ কেউ কেউ তার দেখা স্বপ্নের ১/২ টি মনে রাখতে পারেন, কেউ একটিও মনে রাখতে পারেন না।’ মানুষের ঘুমের পর তাদের চিন্তাগুলোর উপরে ব্রেনের আধিপত্যের কারণেই মানুষ স্বপ্ন দেখে বলে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
বিষয়ক ৮টি বিচিত্র বৈজ্ঞানিক সত্য

২. স্বপ্ন শিখতে সাহায্য করে :

আরনুফ জানিয়েছেন যে মানুষ তার জীবনের জাগতিক ঘটনাগুলোর প্রায় ৮৬ শতাংশ নিয়েই স্বপ্ন দেখে থাকে। সুতরাং আপনি যদি কোনো কোর্স বা পড়াশুনায় মনোযোগ দিয়ে থাকেন তবে তা আপনার স্বপ্নে এসে স্মৃতিতে বাঁধা পড়বে। অর্থাৎ আপনি ঐ কোর্স বা বিষয়টি নিয়েই স্বপ্ন দেখবেন এবং মনে রাখবেন। এক্ষেত্রে আপনি যদি ৯০ মিনিটের একটি কোর্স করেন তবে তার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো অবশ্যই আপনার স্বপ্নে এসে ধরা পড়বে।

৩. দুঃস্বপ্ন হতে পারে মঙ্গলকর :

‘চেতনা ও বোধশক্তি’ নামক একটি প্রকাশনায় প্রকাশিত আরনুফের একটি গবেষণায় উঠে আসে যে, দুঃস্বপ্ন মানুষের জন্য বেশ শুভকর হতে পারে। কেননা যেমন ধরুন একজন তার ভবিতব্য পরীক্ষা বা ইন্টারভিউয়ের জন্য খুব দুশ্চিন্তায় থাকলে সেটি তার স্বপ্নে দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দেবে। যার ফলে তার চেষ্টা আরও অনেক বেশি হবে। ফলত তার ইন্টারভিউ বা পরীক্ষাটি অনেক ভালো হবে। সুতরাং দুঃস্বপ্ন মানুষের জন্য মঙ্গলকরও হতে পারে।

৪. তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়েও স্বপ্ন দেখা যায় :

আমরা হয়ত শুনে থাকব যে শুধুমাত্র মানুষ যখন বিভোর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে কেবল তখনই স্বপ্ন দেখে। কিন্তু আরনুফের গবেষণায় দেখা যায় যে, মানুষ হালকা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়েও স্বপ্ন দেখতে পারে। তবে এটি তখনই সম্ভব যখন মানুষের ব্রেনটি অনেক বেশি ক্লান্ত থাকে।

৫. নারীদেরও স্বপ্নদোষ হতে পারে :

শুধু যে পুরুষরাই স্বপ্নদোষে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাই না নারীরাও এই স্বপ্নদোষে আক্রান্ত হতে পারেন। মন্ট্রেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিশেষজ্ঞ এই বিষয়ে গবেষণা করে বলেন, পুরুষদের মতই স্বপ্নে নারীদের দেহের অর্গানগুলো কাজ করে এবং তারা স্বপ্নদোষে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

৬. আমরা সর্বোচ্চ ৩ টি স্বপ্ন মনে রাখতে পারি :

অনেকের ধারণা মানুষ খুব বেশি হলে একটা স্বপ্ন দেখে। অথবা অনেকে বলেন যে একটি ঘটনার মাঝে আরেকটি ঘটনা ঠিক কীভাবে এলো বুঝতে পারছি না। সে আসলে অনেকগুলো স্বপ্নই দেখেছে কিন্তু তার মাঝে মনে রাখতে পারে সর্বোচ্চ ৩টি। এর চেয়ে বেশি স্বপ্ন তার একেবারেই মনে থাকে না।

৭. হাঁটলে স্বপ্ন মনে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে :

ঘুম থেকে ওঠার পরপরই স্বপ্ন খুব কদাচিৎই মনে পড়ে। তবে আরনুফ বলেন, ঘুম থেকে ওঠার পরে হালকা হাঁটাহাঁটি করলে স্বপ্ন মনে পড়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। কেননা তখন ব্রেনটি আস্তে আস্তে স্থির হয় এবং স্মৃতি স্মরণে সহায়তা করে।

৮. স্বপ্ন ধারাবাহিকভাবে লম্বা হতে পারে :

অনেকেই ধারাবাহিক স্বপ্ন দেখে থাকেন। অর্থাৎ একটি একটি ঘটনার কিছু অংশ, আরেকদিন বাঁকি অংশ এভাবে স্বপ্ন দেখে থাকেন। এই ধরনের স্বপ্নকে আরনুফ ব্যাখ্যা করেন ‘এপিক ড্রিমিং বা মহাকাব্যিক স্বপ্’ নামে।

বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপাতেই প্রাণের সঙ্কেত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা


বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপাতেই প্রাণের সঙ্কেত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা

বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং একাধিকবার বলেছেন, মানুষ যেমন ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে, তেমনই কোনও ভিনগ্রহের বাসিন্দারাও পৃথিবীর সন্ধান চালাচ্ছে। পৃথিবীর মহাকাশ বিজ্ঞানের থেকেও উচ্চপ্রযুক্তির সাহায্যে হয়তো তারা পৃথিবীর খোঁজ পেয়েও গিয়েছে। যেকোনও দিন পৌঁছে যাবে।
স্টিফেন হকিংয়ের এমন অনুমান ধীরে ধীরে বাস্তবের দিকে এগোচ্ছে।
উপগ্রহ ইউরোপাতেই প্রাণের সঙ্কেত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপাতেই প্রাণের সঙ্কেত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সেই সঙ্কেত অদৌ সত্যি কিনা, তা যাচাই করতেই এবার নাসার বিজ্ঞানীদের গন্তব্য হচ্ছে ইউরোপা।
স্টিফেন হকিংয়ের দাবি অনুযায়ী, ভিনগ্রহের বাসিন্দারা পৃথিবীর খোঁজ করছে কিনা, তা প্রমাণ সাপেক্ষ হলেও এই সুবিশাল ব্রহ্মাণ্ডে কোনো গ্রহ বা উপগ্রহে প্রাণ আছে তা নিয়ে নিরন্তর গবেষণা চলছেই। তবে বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপায় একেবারে আটঘাট বেঁধেই নামছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা। নাসা জানিয়েছে ইউরোপার দক্ষিণ মেরুতে মাঝে মাঝেই জলের বিস্ফোরণ লক্ষ্য করা গিয়েছে।
২০১২ সালে নাসার স্পেস টেলিস্কোপের কয়েকটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, ইউরোপায় সমুদ্রে তরল জল থাকার থাকার সম্ভাবনা প্রবল। আর জল থাকলে প্রাণীও থাকতে পারে।
নাসার ইউরোপা মিশন এর নাম ইউরোপা ক্লিপার। ক্লিপার নামে একটি স্যাটেলাইট ইউরোপাকে প্রদক্ষিণ করে ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠাবে।

ভবিষ্যতে আমাদের হাতে আসছে অণু পরমাণু দিয়ে চালিত ডিভাইস



ভবিষ্যতে আমাদের হাতে আসছে অণু পরমাণু দিয়ে চালিত ডিভাইস 



আইবিএমের বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের গবেষণালব্ধ আবিষ্কার এখনই পণ্যে প্রয়োগের জন্য যথেষ্ট নয়৷ এ নিয়ে আরো ব্যাপকভিত্তিক কাজ করতে হবে৷ চূড়ান্ত সাফল্য এলে তৈরি করা যাবে অতি ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রযুক্তিপণ্য৷ বিনির্মাণ করা যাবে সূক্ষ্ম কাঠামো, অতি ক্ষুদ্র অ্যাটমিক স্কেল কম্পোনেন্ট৷ এই সব কম্পোনেন্ট ভবিষ্যতে ব্যবহার করা যাবে কমপিউটার চিপ, স্টোরেজ ডিভাইস, সেন্সর এবং এমন সব পণ্যে, যা কেউ কখনো চিন্তাই করেনি৷ আইবিএমের বিজ্ঞানীদের গবেষণালব্ধ এ সাফল্যের কথা জানিয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ৷
বিজ্ঞানীরা জানান, তারা একটি বিশেষ পরমাণুতে ম্যাগনেটিক অ্যানিসোট্রফি কী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে, তা পরীক্ষা করে দেখেছেন৷ পরমাণুর তথ্য সংরক্ষণক্ষমতা নির্ণয়ের জন্য এ ধরনের পরীক্ষা জরুরি ছিল৷ এর আগে কেউ একটি একক পরমাণুর ম্যাগনেটিক অ্যানিসোট্রফি পরিমাপে সক্ষম হয়নি৷ তাই বর্তমান পরীক্ষাকে একটি মৌলিক বিষয় বলে বর্ণনা করা হচ্ছে৷ বিষয়টি নিয়ে আরো কাজ করা গেলে এক সময় একটি সুনির্দিষ্ট পরমাণু বা ক্ষুদ্র পরমাণু গুচ্ছযুক্ত কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে৷ আর এই কাঠামোতে সংরক্ষণ করা যাবে ম্যাগনেটিক ইনফরমেশন বা চৌম্বকতথ্য৷ সেক্ষেত্রে আইপড আকৃতির একটি ডিভাইসে সংরক্ষণ করা যবে ৩০ হাজার চলচ্চিত্রে বা ইউটিউবে, যা কিছু আছে তার সবই৷ অর্থাৎ লাখ লাখ ভিডিও, যা ১ হাজার ট্রিলিয়ন বিটেরও বেশি৷ এককথায় বলা যায়, এ আবিষ্কারের যথাযথ বাস্তবায়ন পুরোপুরি পাল্টে দেবে ইলেকট্রনিক পণ্যের আকার এবং সেসবের পরিচালনা পদ্ধতি৷ প্রচলিত ব্যবস্থার কমপিউটিং আর থাকবে না৷ অর্থাৎ ন্যানো প্রযুক্তির এই বিষময়কর আবিষ্কার পণ্যের আকৃতিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি পাল্টে দেবে এগুলোর পরিচালনা পদ্ধতিও৷
আইবিএমের গবেষকরা সিঙ্গেল মলিক্যুল সুইচ নিয়েও কাজ করেছেন৷ মলিক্যুল বা অণুর বহিরাবরণ বা বহির্কাঠামোতে বিঘ্ন না ঘটিয়েই এটি ক্রমাগত কাজ চালিয়ে যেতে পারে৷ মলিক্যুলার স্কেলে কমপিউটিং উপাদান তৈরির ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার একটি তাত্পর্যপূর্ণ অগ্রগতি৷ এর ফলে ভবিষ্যতে এমন পণ্য উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে, যা আজকের কমপিউটার চিপ এবং মেমরি ডিভাইসের চেয়ে ক্ষুদ্র, দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং কম বিদ্যুৎ খরচ করবে৷
একটি একক অণুতে সুইচিং ছাড়াও গবেষণা একটি অণুর ভেতরকার পরমাণুতেও এই প্রক্রিয়া চালিয়েছেন৷ এতে দেখা গেছে একটি অণুর ভেতরকার পরমাণু তার সংলগ্ন অন্য অণুতে থাকা পরমাণুর সাথে সংযোগস্থাপনে সক্ষম এবং এসময় অণুর কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না৷
লার্জ ম্যাগনেটিক অ্যানিসোট্রফি অব এ সিঙ্গেল অ্যাটমিক স্পিন অ্যামবেডেড ইন এ সারফেস মলিক্যুলার নেটওয়ার্ক শীর্ষক গবেষণাপত্রে সুনির্দিষ্ট আয়রন অ্যাটম ম্যানিপুলেট করতে গবেষকরা আইবিএমের বিশেষ স্ক্যানিং টানেলিং মাইক্রোস্কোপ (এসটিএম) ব্যবহার করেছেন এবং এদেরকে স্থাপন করেছেন বিশেষভাবে তৈরি কপার পৃষ্ঠে৷ এরপর এরা সুনির্দিষ্ট আয়রন অ্যাটমে ম্যাগনেটিক অ্যানিসোট্রফির শক্তি এবং আচরণ নিরূপণ করেন৷
ডাটা বা উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য অ্যানিসোট্রফি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান৷ কারণ, ম্যাগনেট বা চুম্বক কোনো বিশেষ আচরণ করবে, নাকি করবে না তা নির্ধারণ করে এই অ্যানিসোট্রফি৷
ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসে আইবিএম আলমাদেন রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপক জিয়ান লুকা বোনা বলেছেন, আজকের দিনে আইটি শিল্পের সামনে একটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষুদ্র ডিভাইসে উপাত্ত সংরক্ষণের ক্ষমতা বাড়ানো৷ অর্থাৎ পণ্যের আকার হবে যতোটা সম্ভব ছোট৷ কিন্তু এর তথ্য ধারণক্ষমতা হবে অনেক বেশি৷ তিনি বলেন, তারা সেই কাজটিই করে যাচ্ছেন৷ অত্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষুদ্র ডিভাইস তারা গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতে চান৷ আর পরমাণুতে উপাত্ত সংরক্ষণে দিন আসতে আর বেশি বাকি নেই৷ এ কাজে আইবিএম বহুদূর এগিয়েছে৷ বলা যায় বিজ্ঞানীরা পরমাণু পর্যায়ে ডাটা ধারণের পথে এখন আরো একধাপ এগিয়েছেন৷ অ্যাটমে সুনির্দিষ্ট চৌম্বক কার্যক্রম সম্পর্কে বুঝতে পারা নিঃসন্দেহে একটি তাত্পর্যপূর্ণ অগ্রগতি৷
কারেন্ট ইনডিউস হাইড্রোজেন টাওটোমেরাইজেশন অ্যান্ড কন্ডাকট্যান্স সুইচিং অব ন্যাফথালোসিয়ানাইন মলিক্যুলাস শীর্ষক গবেষণাপত্রে আইবিএমের গবেষকরা একটি অণুর সুইচিং ক্ষমতা ব্যাখ্যা করেছেন৷ এ কাজে তারা একটি ন্যাফথালোসিয়ানাইন অরগানিক মলিক্যুলের মধ্যে দুটি হাইড্রোজেন অ্যাটম ব্যবহার করেছেন৷ আইবিএম এবং অন্য গবেষকরা ইতোপূর্বে সিঙ্গেল মলিক্যুলে সুইচিং করেছেন৷ কিন্তু তখন দেখা গেছে, সুইচিংয়ের সময় মলিক্যুল বা অণু তাদের আকৃতি পরিবর্তন করে ফেলে৷ ফলে কমপিউটার চিপ বা মেমরি উপাদানে এটির ব্যবহার অসম্ভব হয়ে পড়ে৷ গবেষণার মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তরণের কাজ চলছে৷
গবেষকরা বলছেন, এই মলিক্যুলার সুইচ একদিন কমপিউটার চিপকে সুপার কমপিউটারের মতো দ্রুতগতিসম্পন্ন করে তুলবে, কিন্তু কমপিউটারের আকার হবে ক্ষুদ্র৷ এমন কমপিউটার চিপ তৈরি হবে, যা দেখতে হবে ধূলিকণার মতো৷ কিংবা বসানো যাবে সুইয়ের মাথায়৷
প্রচলিত সিলিকনভিত্তিক সিএমওএস চিপ এখন তার সামর্থ্যের শেষ সীমায় রয়েছে৷ তাই আইটি শিল্প খুঁজে ফিরছে কমপিউটারের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর অন্য কোনো উপায়৷ যে উপায় হবে নতুন এবং কমপিউটার হবে দ্রুতগতিসম্পন্ন ও অধিক তথ্য ধারণে সক্ষম ৷ এজন্য প্রথমেই ভাবা হচ্ছে মডিউলার মলিক্যুলার লজিক নিয়ে৷ যদিও এর বাস্তবতা রয়েছে এখনো বহু বছর দূরে৷ গবেষকরা তাই একটি সার্কিটে অণু বসানোর উপায় নিয়ে কাজ শুরু করার পদক্ষেপ নিচ্ছেন৷ এটি করার পর বুঝা যাবে একটি মলিক্যুলার চিপে এদের আচরণ বা নেটওয়ার্ক কেমন হয়৷
কোনো ইলেকট্রনিক উপাদানে মলিক্যুল বা অণু ব্যবহারের এই ধারণা এখনো রয়েছে শৈশবে৷ এ ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে হাতেগোনা৷ এতে দেখা গেছে বেশিরভাগ অণু জটিল, ত্রি-মাত্রিক কাঠামোর এবং সুইচিংয়ের সময় নিজেদের আকার পরিবর্তন করে ফেলে৷ কমপিউটারে ব্যবহারের জন্য এদের বিল্ডিং ব্লক তৈরি করা সহজসাধ্য নয় এবং এদের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা মারাত্মক কঠিন৷ তাই সহসাই এমন পণ্য পাওয়ার আশা প্রায় নেই বললেই চলে৷
তারপরও গবেষণা যেভাবে এগিয়ে চলেছে তাতে এটা প্রায় নিশ্চিত যে, যতো বছর পরই হোক না কেনো আমরা এ ধরনের অসাধারণ কিছু ডিভাইস পাবো, যাতে ব্যবহার হবে সিলিকনের পরিবর্তে পরমাণু বা অণু৷ সবার হাতে থাকবে অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন সব প্রযুক্তি পণ্য, যা বয়ে আনবে মানুষের কল্যাণ৷

মেডিক্যাল পরীক্ষায় নতুন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

মেডিক্যাল পরীক্ষায় নতুন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন



একরাশ ক্ষোভ নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের এক শিক্ষক-চিকিৎসক বললেন, “কিছুই বদলাল না। রাতে মোটরবাইকে চেপে আমার কোয়ার্টার্সে এসে নম্বরের জন্য শাসিয়ে গিয়েছে ছেলেরা।” এনআরএসের এক শিক্ষক চিকিৎসকের কথায়, “স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাকে ধরে নম্বর বাড়ানোর জন্য আমার উপরে চাপ তৈরি করছে দুই ছাত্র।” ন্যাশনাল মেডিক্যালের এক শিক্ষক চিকিৎসক আবার অভিযোগ করলেন, “হাসপাতাল থেকে ফেরার সময়ে রাস্তায় এক ছাত্র প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে গিয়েছে যাতে তাদের কোনও ভাবেই ফেল না করানো হয়।”
এই বিপত্তির কারণ, পরীক্ষার্থীরা খোলাখুলি জেনে যাচ্ছেন কোন মেডিক্যাল কলেজে কোন শিক্ষক-চিকিৎসক তাঁদের খাতা দেখছেন! এই অবস্থায় কতটা নিরপেক্ষ ভাবে খাতা দেখা সম্ভব, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরে। আর বিতর্কের কেন্দ্রে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার ৮টি মেডিক্যাল কলেজ।
পরীক্ষকদের যাতে কেউ প্রভাবিত করতে বা চাপ দিতে না-পারেন, তাই ২০১৪-১৫ বর্ষ থেকে নতুন নিয়ম চালু করেছেন রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়-কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার ৮টি এবং জেলার ৯টি মেডিক্যাল কলেজের জন্য নিয়ম একটু আলাদা। এর মধ্যে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় এমবিবিএসের অন্তর্বর্তী পরীক্ষার খাতা দেখার নিয়মে পরীক্ষকদের প্রভাবিত করার পথ খোলাই রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ একাধিক অধ্যক্ষ ও ছাত্রছাত্রীর।
নিয়ম অনুযায়ী এত দিন এমবিবিএসের অন্তর্বর্তী পরীক্ষার থিওরি পেপারের জন্য কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার পড়ুয়ারা অন্য মেডিক্যাল কলেজে যেতেন। কিন্তু খাতা দেখা হত নিজেদের কলেজে। জেলার ক্ষেত্রে পরীক্ষা ও খাতা দেখা দু’টোই হত নিজের কলেজে। দুই নিয়মেই খাতা দেখার ক্ষেত্রে স্বজনপোষণ, প্রভাব খাটিয়ে বা ভয় দেখিয়ে নম্বর বাড়ানোর মতো ঘটনা ঘটত বলে অভিযোগ।
এর পরেই ঠিক হয় জেলার ছাত্রছাত্রীরা নিজের কলেজে থিওরি পেপার পরীক্ষা দিলেও তাঁদের খাতা আসবে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে। তা হলে কারা খাতা দেখছেন, তা জানতে পারবেন না পড়ুয়ারা। এই নিয়মকে সব স্তর থেকেই স্বাগত জানানো হয়। কিন্তু গোল বাধে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার মেডিক্যাল কলেজগুলিকে নিয়ে। সেখানে ঠিক হয়, ছাত্রছাত্রীরা যে মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে থিওরি পরীক্ষা দেবে, সেখানেই খাতা দেখা হবে তাঁদের।
বিতর্ক উঠছে এখানেই। কারণ, এ ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীরা জেনে যাচ্ছেন তাঁদের খাতা কোথায় দেখা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ক্ষেত্রেও পরীক্ষকদের প্রভাবিত করা বা ভয় দেখিয়ে নম্বর বাড়ানোর পথ খোলাই থাকছে। তা হলে নতুন নিয়মে লাভ কী হল? প্রশ্ন উঠেছে, জেলার মতো কলকাতার মেডিক্যাল কলেজগুলির ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে খাতা দেখার ব্যবস্থা হল না কেন?
রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবতোষ বিশ্বাস বলেন, “কলকাতার মেডিক্যাল কলেজগুলির ক্ষেত্রে আগে নিজেদের ছাত্রদের খাতা নিজেদের কলেজে দেখায় যতটা স্বজনপোষণ বা অনিয়ম হত, এখন তা কমেছে।” কিন্তু পড়ুয়ারা কেন জানতে পারবেন কারা তাঁদের খাতা দেখছেন? উপাচার্যের জবাব, “কাজ করতে দিন। আর একটি কথাও বলব না।”
স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার কান্তাপ্রসাদ সিংহ অবশ্য মেনে নিয়েছেন কলকাতার মেডিক্যাল কলেজের খাতা দেখার ব্যবস্থায় গলদ রয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “মূলত লোকবল এবং স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গার অভাবে জেলার পাশাপাশি কলকাতার খাতা দেখার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। ফলে প্রক্রিয়াটি ত্রুটিমুক্ত থাকছে না।” তবে তিনি জানান, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে কিছুটা জমি এসেছে। সেখানে নতুন ভবন তৈরি হলে জায়গার অভাব মিটবে। ততদিন কলকাতার মেডিক্যাল কলেজগুলির খাতার ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের নামের বদলে ‘বার কোড’ দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা হচ্ছে। ফলে কোথায় খাতা দেখা হচ্ছে জানা থাকলেও কোনটা কার খাতা, তা জানা যাবে না। কিন্তু আদৌ কত দিনে এই ব্যবস্থা চালু করা যাবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Saturday, February 21, 2015

ভারতে আসছে সৌর-বিমান

ভারতে আসছে সৌর-বিমান


1

‘সোলার ইমপালস’-এর ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া ছবি।

বিশ্ব-পরিক্রমায় বেরোতে চলেছে সৌরশক্তি চালিত বিমান ‘সোলার ইমপালস ২’। ভারতেও আসছে সে। মার্চের শুরুতেই। সুইস গবেষক তথা আবিষ্কারক বারট্র্যান্ড পিকার্ড ও আন্দ্রে বরশবার্গ জানিয়েছেন সেই কথা।
এ মাসের শেষের দিকে পৃথিবী-পরিক্রমায় বেরোবে সৌর-বিমানটি। আবু ধাবি থেকে যাত্রা শুরু করবে সে। মাঝে মাসকাটে নেমে তার পরই চলে আসবে ভারতে। এ দেশে আমদাবাদ ও বারাণসী, এই দুই শহরে নামার কথা ‘সোলার ইমপালস ২’-র।
বিমানের পিঠের উপর রয়েছে ৭২ মিটার টানা লম্বা ডানা। তার উপর বসানো ১৭২৪৮টি সোলার সেল বা সৌরকোষ। যারা শুষে নিতে পারে সূর্যের শক্তি। আর সেই শক্তিকে রসদ করেই পাড়ি দেবে বিমান। দিনের বেলায় যে সৌরশক্তি জমা হবে, তাতে রাতেও উড়বে সে। বিমানের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার। ভারত থেকে সৌর-বিমান মান্দালয়, মায়ানমার হয়ে যাবে চিনে। তার পর প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে পৌঁছে যাবে আমেরিকায়। সেখান থেকে অতলান্তিক পেরিয়ে দক্ষিণ ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা হয়ে ফের পা ফেলবে আবু ধাবিতে।
দুই বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, তাঁদের আসল উদ্দেশ্য জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কাটিয়ে দূষণহীন পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির ব্যবহার।

মঙ্গলায়ন, রেডি স্টেডি

মঙ্গলায়ন, রেডি স্টেডি


pathikda1

ইসোরোর সদর দফতরে চলছে শেষ মুহূর্তের পরীক্ষা। ছবি: এএফপি।

সংবাদ সতত স্থানীয়। এই মুহূর্তে আমরা ভারতীয়রা ইসরোর পাঠানো মঙ্গলায়ন-এর খবরে উদগ্রীব। তাই আমাদের ততটা আগ্রহ নেই নাসা-র খবরে। অথচ, মঙ্গলায়ন যখন লালগ্রহের কক্ষপথে প্রবেশের অপেক্ষায়, তখন তাকে অল্পের জন্য পিছনে ফেলে সেই কাজ সমাধা করল নাসা-প্রেরিত মহাকাশ যান ‘মাভেন’ (মার্স অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যান্ড ভোলেটাইল ইভলিউশন)। সোমবার ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ওই মার্কিন মহাকাশযান ঢুকে পড়েছে মঙ্গলগ্রহের কক্ষপথে। অর্থাৎ ভারতীয় বিজ্ঞানীদের পাঠানো মহাকাশ যানের ৪৮ ঘণ্টা আগে একই কাজ করে ফেলল মার্কিন অনুসন্ধানী যান।
যাত্রাপথে দশ মাস সময় নিয়েছে ‘মাভেন’। সেখানে মঙ্গলায়নের সময় লাগল সাড়ে দশ মাস। নাসা কিংবা ইসরো, দুইয়েরই অনুসন্ধিৎসা মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডল ঘিরে। শক্তিশালী যন্ত্রে ওই গ্রহের বাতাবরণের উপাদান বিশ্লিষ্ট হবে। অনেক কিছুর মধ্যে খুঁজে দেখা হবে সেই উপাদানে রয়েছে কি না মিথেন গ্যাসের চিহ্ন।
কেন মিথেন?
ওই গ্যাসটি জৈবিক ক্রিয়ার পরিণাম হিসেবে চিহ্নিত। নানা ভাবে অনুসন্ধানে বহুকাল ধরে খোঁজা হয়েছে মঙ্গলের আকাশে মিথেনের চিহ্ন। পাওয়া যায়নি কিছুই। তবুও আশা, নতুনতর সন্ধানে যদি মেলে ওই গ্যাসের খোঁজ। সুতরাং, ‘মাভেন’ কিংবা মঙ্গলায়ন, বিজ্ঞানী ভারতীয় হোন বা আমেরিকান, তাঁদের অনুসন্ধানে মঙ্গলে প্রাণের খোঁজ এক বড় দায়।
খুব দূরে নয় বলে মঙ্গলগ্রহের দিকে খালি চোখেও মানুষের তাকানোর অভ্যেস বহু পুরনো। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে মিশরীর পণ্ডিতেরা ওই গ্রহের দিকে তাকিয়ে নানা রকম ধারণা করেছিলেন। ব্যাবিলনের বিশেষজ্ঞেরা তো ওই গ্রহের চলনের নিয়মকানুন দেখে গাণিতিক ফর্মুলাও উদ্ভাবন করে ফেলেছিলেন। দূরবিনে প্রথম মঙ্গল দেখা ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে। কৃতিত্বের দাবিদার গ্যালিলেও গ্যালিলেই।
উনবিংশ শতাব্দীতে দূরবিনের প্রভূত উন্নতি এবং লালগ্রহ সম্পর্কে কৌতূহলের জোয়ার। সে জোয়ারে যতটা না বিজ্ঞান, তার চেয়ে ঢের বেশি ভাবাবেগ। না হলে ১৮৭৭ সালে ইতালীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী গিওভান্নি সিয়াপারেলি মঙ্গলের বুকে আবিষ্কার করে বসেন কৃত্রিম নালা। তা নাকি কেটেছে মঙ্গলের জীবেরা, জলসেচ করে ফসল ফলানোর উদ্দেশ্যে। জ্যোতির্বিজ্ঞানী পার্সিভাল লাওয়েল লিখলেন তিনখানি বই। ‘মার্স’ (১৮৯৫), ‘মার্স অ্যান্ড ক্যানালস’ (১৯০৬) এবং ‘মার্স অ্যাজ দি অ্যাবোড অফ লাইফ’ (১৯০৮)। বলাবাহুল্য, সব বইতেই মঙ্গলগ্রহের ইটি-দের সভ্যতা নিয়ে বিস্তর আলোচনা। জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্থিরনিশ্চিত যে মঙ্গলে প্রাণের বসবাস আছেই।
অগস্ট ১৯২৪। লালগ্রহ পৃথিবীর কাছাকাছি। ইউরোপ এবং আমেরিকা জুড়ে মঙ্গল অনুসন্ধানের তোড়জোড়। রীতিমতো ঘটা করে তিন দিন ধরে বন্ধ রাখা হল সরকারি, বেসরকারি বেতার যোগাযোগ। পাছে ও সবের ভিড়ে হারিয়ে না যায় মঙ্গলের জীবেদের পাঠানো বেতার সঙ্কেত। মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রধান রেডিও অপারেটর যন্ত্রপাতি সাজিয়ে তৈরি থাকলেন লালগ্রহ থেকে পাঠানো সঙ্কেত বিশ্লেষণের কাজে। তিনি যদিও পেলেন না কিছু, ব্রিটিশ এবং কানাডীয় রেডিও অপারেটররা কিন্তু দাবি করলেন যে, তাঁরা শনাক্ত করেছেন লালগ্রহ থেকে পাঠানো বিচিত্র রেডিও ‘বিপ’। আল্পস পর্বতের বরফে আলো প্রতিফলিত করে অভিবাদন-সঙ্কেত পাঠানো হল মঙ্গলের জীবেদের উদ্দেশে।
এর পর এইচ জি ওয়েলস-রচিত কল্পবিজ্ঞান কাহিনি ‘ওয়্যর অফ দি ওয়াল্ডর্স’। এক গ্রহ বনাম অন্য গ্রহের জীবেদের যুদ্ধ। রেডিওতে সে কাহিনি-নির্ভর নাটক প্রচারে অভিনেতা অরসন ওয়েলস। বেতারে নাটক প্রচারে সূচনা বাক্য: “দ্য মার্সিয়ানস হ্যাভ ল্যান্ডেড।’’ মানুষ ভাবল বুঝি সত্যি সত্যি পৃথিবীর বুকে নেমেছে মঙ্গলের জীব। ধ্বংস সমাসন্ন। কয়েক মিনিট আমেরিকা জুড়ে প্রবল আতঙ্ক।
ভিনগ্রহে প্রাণের ভাবনায় মঙ্গলের উল্লেখ কাল্পনিক হলেও, এর মূলে বিজ্ঞানের ছোঁয়াটুকু এড়ানো যায় না। কারণ? পৃথিবী গ্রহের সঙ্গে তার সাদৃশ্য। পৃথিবীর মতোই মঙ্গলের ভূমি কঠিন। ওই গ্রহের দিন-রাতও পৃথিবীর কাছাকাছি, সময়ের হিসেবে মাত্র আধ ঘণ্টা বেশি। নিজস্ব অক্ষের চার দিকে দু’টি গ্রহই ঘোরে প্রায় একই রকম বেগে। দুই গ্রহই নিজস্ব অক্ষের সঙ্গে একই রকম ভাবে কাত হয়ে আছে। পৃথিবী যেখানে আছে ২৩.৫ ডিগ্রি কাত হয়ে, মঙ্গল সেখানে ২৫ ডিগ্রি। ফলাফল দুই গ্রহের ঋতুচক্র প্রায় কাছাকাছি।
মঙ্গলের কক্ষপথ পৃথিবীর তুলনায় সূর্য্য থেকে দূরে, তাই মঙ্গলের বছর ঘুরতে লাগে পৃথিবীর হিসেবে ৬৮৭ দিন। অবশ্য মঙ্গলের গড় তাপমাত্রা পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম। আর পৃথিবীর মতো মঙ্গলের বাতাবরণে নেই কোনও ওজন-চাদর যা বিধ্বংসী অতিবেগুলি রশ্মি থেকে বাঁচাতে পারে লালগ্রহের প্রাণীকে। তা হোক, সে তো এখনকার ব্যাপার, অতীতে ওই গ্রহে পরিস্থিতি ছিল কি প্রাণ-সহায়ক? যদি লক্ষ্যকোটি বছরে বদলায় ওই গ্রহের পরিস্থিতি, তবে তা আগে ছিল কেমন? এ সব প্রশ্নের উত্তর খুব জরুরি।
ইদানিংকালে মঙ্গলে প্রাণ বিষয়ে ফলাও খবর প্রচারিত হয়েছিল ১৯৯৬-তে। সংবাদ শিরোনামে এসেছিল ‘এএলএইচ ৮৪০০১’ নামে এক উল্কাপিণ্ড যা পাওয়া গিয়েছিল আন্টার্কটিকায় ১৯৮৪-র ২৭ ডিসেম্বর। ওই উল্কাপিণ্ডে মঙ্গলে ব্যাক্টেরিয়া জাতীয় প্রাণীর জীবাশ্ম রয়েছে এমন দাবি করেছিলেন নাসার বিজ্ঞানীরা। দাবি পেশ করা হয়েছিল বিজ্ঞানের জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ। এ বাবদে দুনিয়াকে সংবাদ পরিবেশনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন স্বয়ং। নাসার তরফে এ হেন দাবি এবং ক্লিন্টনের ঘোষণা, দু’য়ে মিলে পৃথিবীতে শোরগোল পড়েছিল। মঙ্গলে প্রাচীন ‘প্রাণ’-এর ওই চিহ্ন আন্টার্কটিকায় এল কী ভাবে? তত্ত্ব এই ছিল যে, প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে মঙ্গলের বুকে আছড়ে পড়ে এক ধূমকেতু। তার ধাক্কায় মঙ্গলের বুকে তৈরি হয়েছিল গভীর খাদ। এবং শূন্যে উৎক্ষিপ্ত লালগ্রহের এক খণ্ড। সেই খণ্ড চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ঘুরতে থাকে মহাশূন্যে। তার পর এক সময় তারই কিছু আকৃষ্ট হয় পৃথিবীর অভিকর্ষে। যারা উল্কাপিণ্ড হিসেবে ঝরে পড়েছিল পৃথিবীর নানা জায়গায়। তা পড়ুক, কিন্তু ‘এএলএইচ ৮৪০০১’ যে মঙ্গলের একদা-বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়ার জীবাশ্ম নয়, তা প্রমাণ হতে বেশি দেরি হয়নি। নিন্দুকেরা এমন অভিযোগও করে থাকেন যে, নাসার তরফে ওই ‘আবিষ্কার’ ঘিরে বড় বেশি ঢাকঢোল পোটানো হয়েছিল বিশেষ উদ্দেশ্যে। আর্থিক অনুদান কমে যাওয়ায় নাসার তখন দীন দশা। চমকপ্রদ খবর দিয়ে সরকারি নজরকাড়া নাকি বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে।
মঙ্গলের উদ্দেশ্যে মহাকাশযান পাঠানো আধুনিক মহাকাশচর্চায় খুবই প্রচলিত এক উদ্যোগ। এ ব্যাপারে সাফল্য কিংবা অসাফল্যের প্রসঙ্গ এলে গবেষকেরা স্মরণ করেন ‘মার্স ক্লাইমেট অরবিটার’ যানের কথা। ১৯৯৮-এর ১১ ডিসেম্বর নাসা পাঠিয়েছিল ওই যান। ওটির উদ্দেশ্য ছিল ‘মাভেন’ বা মঙ্গলায়নের মতোই লালগ্রহের বাতাবরণের বিশ্লেষণ। ১৯৯৯-এর ২৩ সেপ্টেম্বর ওই গ্রহের কাছাকাছি পৌঁছেছিল ‘মার্স ক্লাইমেট অরবিটার’। কিন্তু লালগ্রহকে প্রদক্ষিণ করতে গিয়েই বিপত্তি। সে একই সঙ্গে হাস্যকর এবং দুঃখজনক বৃত্তান্ত। মহাকাশযানটির সঙ্কেত প্রেরণকারী যন্ত্র তৈরি করেছিল এক বেসরকারি সংস্থা। যন্ত্রে দূরত্বের হিসেবকিতেবের জন্য সংস্থাটি একক হিসেবে ‘মাইল’ ব্যবহার করেছিল। আর নাসা দূরত্বের হিসেব করে ‘কিলোমিটার’-এ। দুই এককে ফারাক বিস্তর। যেমন, ৬০ মাইল হল ১০০ কিলোমিটার। সুতরাং, ‘মার্স ক্লাইমেট অরবিটার’-এর পাঠানো তথ্য আর নাসার বিজ্ঞানীদের তা বোঝায় ফারাক। এবং মহাকাশ যানের লালগ্রহকে প্রদক্ষিণের বদলে তার মাটি লক্ষ করে ঝাঁপ। সাড়ে বারো কোটি ডলার জলে।
আবার ২৩ সেপ্টেম্বর। এ বার ও রকম ‘তুচ্ছ’ অথচ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ ভুলের আশঙ্কা নেই।